ঐতিহাসিক পটভূমি

পীরগঞ্জ- পীর সিরাজউদ্দীন আউলিয়া (রা.) এর পূণ্যভূমি। দেশের উত্তরের বর্ধিষ্ণু একটি জনপদ। প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ট, প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত একটি এলাকা। কৃষিকেন্দ্রিক অর্থনীতি, কৃষিলব্ধ অনায়াসে জীবিকা এলাকার মানুষকে করেছে ভাববিলাসী, নির্লিপ্ত, কিছুটা উদাসীন। তাই দীর্ঘদিন থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ “ঘরের খাই” বলে রয়েছে ঘরবন্দী। কবির ভাষায় “দেখবো এবার জগৎটাকে” বলে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েনি। স্বপ্ন দেখেনি সৃজনশীল কোন কিছুর, যেখানে দেশের অন্যান্য অঞ্চল এগিয়েছে অনেকখানি। কিন্তু এটাতো কাম্য হতে পারে না। এগিয়ে যেতে হবে। রাখতে হবে জাতির জন্যে ভূমিকা। এই জন্যে চাই সর্বাঙ্গীন সুন্দর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ কথা ভাবলেন এলাকার শিক্ষানুরাগী, সমাজ সচেতন ও সমাজসেবী ব্যক্তিবর্গ।

১৯৬২ সাল। প্রাথমিক বিদ্যালয় বাদ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে শুধুমাত্র একটি বালক বিদ্যালয়। কিন্তু পীরগঞ্জের মতো জনপদে এটাতো কোনক্রমেই যথেষ্ট নয়। চাই একটি কলেজ। যেখান থেকে বেরিয়ে আসবে যোগ্য নাগরিক এবং দেশ গড়ার কারিগর। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে এলেন অনেকে কিন্তু আজকের মতো ষাটের দশকের প্রথমভাগে, কলেজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ছিল কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু সংকল্প যেখানে স্থির, উদ্যম যেখানে অদম্য, সেখানে গিরিরাজিও লংঘিত হয় অনায়াসে। তাই নবজাতক হিসেবে “পীরগঞ্জ কলেজ” দেখলো দিনের আলো। ১৯৬২’র কোন এক শুভ লগ্নে কলেজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের উন্মেষ। ১৯৬৩-তে ছাত্র ভর্তির মাধ্যমে কলেজ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো। কিন্তু এতো স্বপ্নের কণা মাত্র। পাড়ি দিতে হবে আরো অনেক অনেক পথ। কলেজকে পেতে হবে পূর্ণাঙ্গ রূপ।

১৯৬৩’র পীরগঞ্জ কলেজ জন্মলগ্ন পেরিয়ে টলমল পায়ে রুগ্ন-শীর্ণকায়ে এগুতে লাগলো ধীর গতিতে। ১৯৭১-এ সমুদ্র রক্ত পেরিয়ে এলো কাঙ্খিত স্বাধীনতা। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরই “পীরগঞ্জ কলেজ” বালক বিদ্যালয় অঙ্গণ থেকে স্থানান্তরিত হলো বর্তমান কলেজ অঙ্গণে। নানাদিক থেকে সহযোগিতা, দান, অনুদানে পীরগঞ্জ কলেজ পেলো কিছুটা গতি কিছু ভৌত অবকাঠামো। এতদিনে পীরগঞ্জ কলেজ “পীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ”-এ হয়েছে রূপান্তরিত।

১৯৮৬-তে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সফরে এলেন পীরগঞ্জে। তার একটি সভা হলো কলেজ অঙ্গণেই। সেখানেই ঘোষণা হলো পীরগঞ্জ কলেজ সরকারিকরণের। ১৯৮৭-তে সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের বলেই পীরগঞ্জ কলেজ মর্যাদা পেলো সরকারি কলেজ হিসেবে।

২০১৩ সাল। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পীরগঞ্জ সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা। অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুর রহমান এর সফল নেতৃত্বে পীরগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ও স্বপ্ন পূরণ হলো অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করার মাধ্যমে। অধ্যক্ষ মহোদয় এর অদম্য ইচছা ও প্রচেষ্টায় পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আরও ৫টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়।

২০১৫ সাল। নানা চড়াই উৎড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কলেজটি অর্ধশত বছর পেরিয়ে এসেছে। পীরগঞ্জ কলেজকে রত্নগর্ভা কিংবা স্বর্ণ প্রসবিনী বলা যায় কিনা জানিনা। তবে যা দিয়েছে তাও অকিঞ্চিৎকর নয়। পীরগঞ্জ কলেজ জন্ম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার এবং বিদেশে গবেষণারত উজ্জ্বল নক্ষত্র, সরকারি উচ্চপদে সমাসীন অনেক সফল কর্মকর্তা।